পুরো বিশ্বে অনেক গুলো জায়গা পৃথিবীর শেষ প্রান্ত হিসেবে পরিচিত। এই রকম একটা জায়গা সৌদি আরবে ও আছে। জায়গাটা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের সেন্টার থেকে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। একদিন আমরা ঠিক করলাম বন্ধুরা মিলে ঘুরে আসবো। যেহেতু জায়গাটা মরুভূমির পুরো মাঝখানে তাই নিজেদের গাড়ি আর গুগল ম্যাপের ভরসা না করে একজন সৌদি গাইড ঠিক করলাম। আমাদের সৌদি গাইড একজন নৌ বাহিনীর কর্মকর্তা এবং অফিসের কাজে কোন একসময় বাংলাদেশে গিয়েছিলেন তাই আমরা বাংলাদেশী জানার পরে কিছুটা আনন্দিত হলেন বলে মনে হলো। যাই হোক শুক্রবার দিন একটু সকাল সকাল বের হলাম, অনেকটা পথ যাবার পরে শুরু হলো মরুভূমির আঁকাবাঁকা পথ। যাবার পথে কয়েকটা মরুভূমির জাহাজ নামে খ্যাত উটের সাথে দেখা, কিছুদূর যাবার পরে আমাদের গাইড একজায়গায় থামলে গাড়ি থেকে নেমে দেখি মরুভূমির মাঝখানে এক বিশাল গুহা,এই গুহাটা বাদুরের গুহা নামে পরিচিত। সিঁড়ি বেয়ে গুহার ভেতরে নামার পরে আস্তে আস্তে ভেতরের দিকে যেতেই চোখে পরে শত শত বাদুরের উড়াউড়ি। বাদুরের সাথে বেশিক্ষণ থাকা নিরাপদ না মনে হওয়ায় তাড়াতাড়ি বের হয়ে পরি গুহা থেকে।
তারপর আবার যাত্রা শুরু আমাদের আসল গন্তব্যের দিকে, অনেকটা পথ যাবার পরে গাড়ি থামলো, এরপর আর গাড়ি যাবে না বাকিটা পথ যেতে হবে হেঁটে। প্রায় মিনিট দশেক হাটার পরে যা দেখলাম তা যেন ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। যেখানে আমারা দাঁড়িয়ে আছে তার পরেই খাদ। নিচের মরুভূমি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার উপরে আমরা। আর চোখের সামনে বিস্তির্ণ মরুভূমি। দেখে যেন মনে হয় পৃথিবীর শেষ এইখানেই,এর পরে আর কিছু নাই। যত দূর চোখ যায় শুধু ধু ধু মরুভূমি। এইরকম জায়গায় বসে অনেকটা সময় কাটিয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু সকাল থেকে ভ্রমণ করে সবাই অনেকটা ক্লান্ত, তাই সাথে আনা শুকনো খাবার খেয়ে আবার ফিরে আসা ব্যাস্ত শহরে।
